জেএমআইয়ের আইপিওর অর্থ

সময়সীমা বৃদ্ধির প্রস্তাবে বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন

জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) থেকে উত্তোলিত অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনায় সংশোধন ও সময়সীমা ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়াতে অনুমোদন দিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) থেকে উত্তোলিত অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনায় সংশোধন ও সময়সীমা ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়াতে অনুমোদন দিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। গতকাল অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) তারা এ অনুমোদন দেন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে গতকাল এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্যানুসারে, আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ৭৫ কোটি টাকা উত্তোলন করে জেএমআই হসপিটাল। অর্থ হাতে পাওয়ার এক বছরের মধ্যে ব্যয় করার কথা ছিল। তবে অতিরিক্ত যন্ত্রপাতি, ইউটিলিটি ও নির্মাণকাজ সম্পন্ন না হওয়ায় পুরো অর্থ এখনো ব্যয় করা সম্ভব হয়নি। এজন্য কোম্পানিটি আইপিওর অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনায় সংশোধন এনেছে এবং সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।

গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাথমিক বরাদ্দ থেকে ভূমি উন্নয়ন, ভবন ও পূর্ত কাজ, বিএমআরই প্রকল্পের যন্ত্রপাতি কেনা, ঋণ পরিশোধ, বীমা ও শুল্ক বাবদ সম্পূর্ণ টাকা ব্যয় করেছে কোম্পানিটি। তবে সাধারণ সেবা সুযোগ-সুবিধা ও আইপিও খরচ খাতে পুরো টাকা ব্যয় করতে পারেনি। এ দুই খাতের ব্যয় পরিকল্পনায় সংশোধন ও সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

সাধারণ সুবিধা ও আইপিওর খরচ ছাড়া সব খাতের অর্থ সম্পূর্ণ ব্যয় করা হয়েছে। সাধারণ সেবা খাতে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার পরিবর্তে ৫ কোটি ৬৬ লাখ ও আইপিও খরচ খাতে ৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকার পরিবর্তে ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয় করবে কোম্পানিটি। বিনিয়োগকারীরা এ সংশোধিত পরিকল্পনা ও সময়সীমা বৃদ্ধির অনুমোদন দিয়েছেন।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জেএমআই হসপিটালের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ৫৫ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৫ টাকা ৪২ পয়সায়।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে শুধু সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে জেএমআই হসপিটালের ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৮৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৩৪ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৫ টাকা ১৪ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে জেএমআই হসপিটালের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৩৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৪১ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৩ টাকা ৯৫ পয়সায়।

জেএমআই হসপিটালের সর্বশেষ সার্ভিল্যান্স রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘‌এ প্লাস’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘‌এসটি-২’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে আলফা ক্রেডিট রেটিং পিএলসি।

২০২২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জেএমআই হসপিটালের অনুমোদিত মূলধন ৩০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১২৫ কোটি ২৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১৭৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১২ কোটি ৫২ লাখ ৯৪ হাজার ১২০। এর ৩২ দশমিক ৩০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪৩ দশমিক শূন্য ৩ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ২৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

আরও